বয়স ৬০ বছর। জীবিকার তাগিদে টানা ২২ বছর ধরে শেরপুর শহরের শহীদ বুলবুল সড়কের ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করছেন তমশের আলী। প্রতিদিন হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হলেও ব্যবসার খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে, তা দিয়েই চালাতে হয় সংসার। স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী ছেলের ভরণপোষণ এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁকে।
তমশের আলীর বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামে। নিজের কোনো জায়গাজমি নেই। একসময় কৃষিকাজ করতেন তিনি। পরে জীবিকার প্রয়োজনে শুরু করেন কাপড় বিক্রি। প্রথম দিকে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে কাপড় বিক্রি করতেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো দূরদূরান্তে যেতে পারেন না। তাই শহরের ফুটপাতেই কাপড় বিক্রি করেন তিনি।
তমশের আলী বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। আগে গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতাম। এখন আর পারি না, শরীর চলে না। তাই শহরের ফুটপাতে বসে বিক্রি করি।’
নিজের আয়-ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সারাদিনে হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়। বউ আর একটা ছেলে আছে। ছেলের স্কুলের খরচ দিতে হয়। খুবই কষ্ট করে জীবন চলছে। একদিন বেচাকেনা কম হলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।’
দীর্ঘদিন ধরে তমশের আলীর কাছ থেকে কাপড় কেনেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাঁদের একজন আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শহরে বাচ্চাকাচ্চার জন্য কেনাকাটা করতে এলে এই চাচার কাছ থেকে কাপড় কিনি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করতে দেখছি।’
আরেক ক্রেতা সবুজা বেগম বলেন, ‘ফুটপাতে কম দামে কাপড় পাওয়া যায়। তাই এই চাচার কাছ থেকেই কাপড় কিনি।’
সরকারি সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে তমশের আলী বলেন, ‘সরকারের সহায়তা আমাদের জন্য কি না, এসব আমরা বুঝিও না। তবু যদি কোনো সহায়তা পাই, তাহলে ভালোই হবে।’
তমশের আলীর জীবিকা নির্ভর করে প্রতিদিনের বেচাকেনার ওপর। ব্যবসার খরচ বাদ দিয়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হয় তাঁকে। বয়স বাড়লেও পরিবারের দায়িত্ব পালনে কাজ করে যেতে হচ্ছে। সরকারি সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন