Advertisement
শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
News Banner

অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার মো. মনোয়ার হোসেন (৪১), মো. মারুফ হোসেন হলি (২৭) এবং সাঁথিয়া উপজেলার মো. ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, ৬ অক্টোবর রাত ৭টা ২৫ মিনিটে পাবনার আতাইকুলা থানার বনগ্রাম বাজার এলাকা থেকে ইলিয়াস হোসেন রাজুকে এবং রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে সাঁথিয়ার কাশিনাথপুর বাজার এলাকা থেকে মনোয়ার হোসেন ও মারুফ হোসেন হলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সিআইডি জানতে পারে, দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে জুয়ার আয়োজন করা হচ্ছিল।

এসব সাইটে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে টাকা জমা বা ‘টপ-আপ’ করতে হতো। এ জন্য বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। জমা দেওয়া টাকার বিপরীতে বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি যুক্ত করে জুয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, জুয়ার টাকা লেনদেনে ব্যবহারের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ করেছিল চক্রটি। এসব এজেন্টের মাধ্যমে একাধিক এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে তথ্য সরবরাহ করা হতো।

পরে বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ একত্র করে কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হতো। এরপর তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় গত ১৯ মে মামলা করা হয়। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২), ২১(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জুয়ার টাকা সংগ্রহের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। চক্রটির অন্য সদস্য, লেনদেনের পরিমাণ, অর্থপাচারের পদ্ধতি এবং দেশ-বিদেশে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জনগণকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এ ধরনের অবৈধ লেনদেন সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 31 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 456 টি

মন্তব্য করুন