শেরপুরের শ্রীবরদীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ভূয়া তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুফিয়া বেগম শেলী নামে এক নারী।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে শেরপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সুফিয়া বেগম শেলী শ্রীবরদী উপজেলার বিলভরাট গ্রামের বাসিন্দা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে নিজেদের কলাবাগানের কয়েকটি কলাগাছ কাটার অভিযোগে তাঁর ৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা, ছোট ভাই মেহেদী হাসান প্রিন্সসহ একই গ্রামের দিনমজুর ও একজন প্রতিবন্ধীসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
তিনি দাবি করেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীবরদী থানায় দায়ের করা ওই মামলা (নং-১৪) সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।
সুফিয়া বেগম বলেন, তাঁর ছোট ভাই মেহেদী হাসান প্রিন্স ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে ছিলেন। ঘটনার দুই দিন পর ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তিনি। পরে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সময় পুলিশ ওই মামলায় তাঁকে এবং একই এলাকার দিনমজুর খোকা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত তাঁদের জামিন দেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ভাই জামিনে বের হওয়ার পর চাচাতো ভাই-বোনেরা তাঁদের ওপর আরও ক্ষুব্ধ হন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর শেরপুর শহরে তাঁদের বিরুদ্ধে ভূয়া তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, ওই সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বাবাকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘চোরাচালানকারী’সহ বিভিন্ন মানহানিকর আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে।
তিনি ওই সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া বেগম শেলীর স্বজন শান্তি বেগম, ছন্দা বেগম, কালু মিয়া, স্বপন মিয়া ও লাবলু উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন