Advertisement
শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

বিশ্ব অবিবাহিত দিবস

বিশ্ব অবিবাহিত দিবস
News Banner

‘কবে বিয়ে করছেন?’—পরিচিতজনদের এমন প্রশ্ন শুনতে শুনতে যারা কিছুটা বিরক্ত, তাদের জন্য আজকের দিনটি হতে পারে একটু ভিন্নভাবে ভাবার উপলক্ষ। প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষ শনিবার পালিত হয় জাতীয় অবিবাহিত দিবস। অবিবাহিত জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিজের মতো করে জীবনকে উপভোগ করার ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখতেই দিনটির আয়োজন।

একসময় বিয়ে না করাকে সমাজের চোখে অস্বাভাবিক কিংবা অসম্পূর্ণ জীবন হিসেবে দেখা হতো। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের সামাজিক চাপ ছিল আরও বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই দৃষ্টিভঙ্গি। এখন অনেক নারী-পুরুষ নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ভ্রমণ, আত্মউন্নয়ন কিংবা নিজস্ব পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে অবিবাহিত জীবন বেছে নিচ্ছেন।

অবিবাহিত মানেই যে একা কিংবা অসুখী—এমন ধারণাও এখন অনেকটাই পুরোনো। কেউ হয়তো সম্পর্ক বা বিয়ের জন্য প্রস্তুত নন, কেউ নিজের স্বপ্নপূরণে ব্যস্ত, আবার কেউ নিজের মতো করে জীবন কাটাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

যেভাবে শুরু হলো অবিবাহিত দিবস
অবিবাহিতদের জীবন উদ্‌যাপনের ধারণাটি কয়েক দশক পুরোনো। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ‘বাকআই সিঙ্গেলস কাউন্সিল’ অবিবাহিতদের নিয়ে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। পরে ২০১৪ সালে ১১ জানুয়ারি জাতীয় অবিবাহিত দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় পূর্ণ সপ্তাহকে অবিবাহিত সপ্তাহ এবং এর শেষ শনিবারকে জাতীয় অবিবাহিত দিবস হিসেবে পালনের প্রচলন তৈরি হয়।

নিজের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতা
অবিবাহিত জীবনের অন্যতম সুবিধা হলো নিজের সময় ও সিদ্ধান্ত নিজের মতো করে নেওয়ার সুযোগ। কোথায় যাবেন, কী করবেন কিংবা অবসরটা কীভাবে কাটাবেন—এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়।

নিজের যত্ন নেওয়া, শরীরচর্চা, বই পড়া, নতুন কোনো শখ তৈরি করা কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের সময় দেওয়ার সুযোগও থাকে। এমনকি রাতে সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাও নেই!

অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও অবিবাহিত জীবনে ব্যক্তিগত পছন্দের গুরুত্ব থাকে বেশি। নিজের উপার্জন সঞ্চয় করবেন, ভ্রমণে ব্যয় করবেন নাকি কোনো শখ পূরণ করবেন—সিদ্ধান্তটি নিজেরই।

কীভাবে উদ্‌যাপন করবেন দিনটি?

অবিবাহিত দিবস মানেই ঘরে একা বসে থাকা নয়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পছন্দের খাবার খাওয়া, সিনেমা দেখা কিংবা দীর্ঘদিনের ইচ্ছের কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া—যেকোনোভাবেই দিনটি উপভোগ করা যায়।

চাইলে একাই ছোট কোনো ভ্রমণে বেরিয়ে পড়তে পারেন। আর একা ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে বন্ধু কিংবা কোনো ভ্রমণ দলের সঙ্গে সময় কাটানো যেতে পারে।

দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে অন্যের জন্য কিছু করাও হতে পারে সুন্দর একটি উদ্যোগ। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেওয়া, গাছ লাগানো কিংবা কোনো সামাজিক কাজে সময় দেওয়ার মধ্য দিয়েও উদ্‌যাপন করা যায় অবিবাহিত দিবস।

সবশেষে কথা একটাই—বিয়ে করা বা না করা একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জীবনের সুখ, সাফল্য কিংবা পরিপূর্ণতার একমাত্র মাপকাঠি বিয়ে নয়। প্রত্যেক মানুষের জীবনযাপন, পছন্দ ও স্বপ্ন আলাদা।

তাই অবিবাহিত দিবসের সহজ বার্তা হতে পারে—একা থাকা মানেই একা হয়ে যাওয়া নয়; নিজের মতো করে ভালো থাকাও জীবনের বড় এক আনন্দ।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 101 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 456 টি

মন্তব্য করুন